মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি,
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের আটপাড়ায় অবস্থিত রাকা অ্যালুমিনিয়াম কারখানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খালে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটির দূষণে ফসলি জমি, খাল ও পুকুরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় এখন ভুক্তভোগী কৃষকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রোববার দুপুরে বজ্রযোগিনীর বসুপাড়া সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কয়েকজন কৃষক ও এলাকাবাসী এসব অভিযোগ করেন। তারা জানান, গত পাঁচ বছর ধরে কোনো ধরনের শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার ছাড়াই কারখানাটি সরাসরি বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য বজ্রযোগিনী ও রামপালের খালে ফেলছে। এতে কয়েক মাইলজুড়ে খালের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে, পানির রং পরিবর্তন হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার বহু ফসলি জমি এখন অনাবাদি পড়ে আছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষার সময় খালের দূষিত পানি জমিতে প্রবেশ করে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে দিচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক সিরাজ খান বলেন,
“আগে চার একরের বেশি জমিতে চাষ করে ভালো লাভ হতো। কারখানা হওয়ার পর ধীরে ধীরে জমির ফসল নষ্ট হতে শুরু করে। এখন জমিতে আর আগের মতো ফলন হয় না।”
রঘুরামপুর এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন,
“খালের পানি জমিতে দিলে ফসল পুড়ে যায়। দূর থেকে খরচ করে পানি আনলেও লাভ হচ্ছে না।”
বসুপাড়ার মাহমুদা খানম অভিযোগ করেন, খালের দূষিত পানি বর্ষাকালে পুকুরে ঢুকে মাছও মেরে ফেলছে। ফলে তার কয়েক একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে।
এদিকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কৃষক। আটপাড়ার ইদ্রিস মোল্লা বলেন,
“টিভিতে কথা বলার পর একদিন বাড়িতে লোক পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাস্তায়ও আটকিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন কৃষক আমিল হক ও রিপন মিয়া। তারা জানান, জমি হারানোর পাশাপাশি এখন নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাকা অ্যালুমিনিয়াম কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ২০২৩ সালের পর আর নবায়ন হয়নি। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তবুও কারখানাটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন,
“কারখানাটির কোনো বৈধ পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে বর্জ্য ফেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকা ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক রিফাত হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা কারখানাটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।