সিরাজদিখানে চরম বিদ্যুৎ সংকট ও দ্বিগুণ বিলের চাপে দিশেহারা জনজীবন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে তীব্র গরমে একদিকে যেমন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে গ্রাহকদের হাতে আসছে অস্বাভাবিক ও দ্বিগুণ অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির সিন্ডিকেট ও দায়িত্বহীনতার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে কি না—এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দ্বিগুণ বিলের বোঝা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কিছুদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো বিদ্যুৎ বিল দেখে অনেকেই হতবাক হচ্ছেন। ব্যবহার হ্রাসের পরও আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বিল আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ उपभोक्ताরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নিয়মনীতি বা সঠিক মিটার রিডিং ছাড়াই খেয়ালখুশি মতো বিল তৈরি করা হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিত্যপণ্য ও জ্বালানির লাগামহীন দাম
শুধু বিদ্যুৎ নয়, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহার্য চাল, ডাল, তেল, শাকসবজিসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য এখন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও জ্বালানির চড়া দাম। ফলে প্রতিটি পরিবারের মাসিক বাজেট ভেঙে পড়েছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও নির্ধারিত আয়ের চাকুরিজীবীরা পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
জনগণের প্রত্যাশা
দেশবাসীর একটাই দাবি—রাজনীতি বা অন্যান্য সংকটের প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও বেঁচে থাকার অধিকারের উপর না পড়ে। জনগণ কোনো অজুহাত চায় না; তারা চায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুব্যবস্থা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অবিলম্বে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নামিয়ে আনা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।