
নড়াইলে ইজিবাইক চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪টি ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল উদ্ধার
উজ্জ্বল রায়, নড়াইলঃ
নড়াইল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইজিবাইক চোরচক্রের সক্রিয় তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চারটি চোরাই ইজিবাইক, একটি চোরাই পালসার মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশনায় নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে এসআই সাগর শিকদার, এসআই শুকান্ত বিশ্বাস, এসআই লিটন, এসআই মঈনুজ্জামান ও এসআই মো. রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি চৌকস দল অংশ নেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম উত্তরপাড়ার তোকাম মোল্লার ছেলে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মিরাজুল ইসলাম ওরফে মিরাজ মোল্লা, একই গ্রামের নওশের মোল্লার ছেলে শবুজ মোল্লা এবং লিকুল মোল্লার ছেলে রিফায়েত মোল্লা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই ইজিবাইক, একটি পালসার মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শবুজ মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। এরপর মিরাজ ও শবুজের তথ্য অনুযায়ী রিফায়েত মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও দুটি ইজিবাইক ও বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, চক্রটি চোরাই ইজিবাইক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রং পরিবর্তন করে ফেলত। একইভাবে মোটরসাইকেলের চেসিস নম্বর ঘষে পরিবর্তন করে বিভিন্ন স্থানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযান শেষে উদ্ধার করা ইজিবাইকগুলোর একটি পুলিশ পরিদর্শক অজয় কুমার কুন্ডুকে নিজে চালিয়ে থানায় নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই যানবাহন ও যন্ত্রাংশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল।