
টাইব্রেকারে লৌহজংকে হারিয়ে সেমিফাইনালে সিরাজদিখান উপজেলা মহিলা ফুটবল দল (বয়রাগাদি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়)
নিজস্ব প্রতিবেদক │ মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আন্তঃউপজেলা মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টে দারুণ এক লড়াইয়ে টাইব্রেকারে লৌহজং উপজেলা দলকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠেছে সিরাজদিখান উপজেলা দল (বয়রাগাদি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়)। বৃহস্পতিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই খেলা ছিল দর্শকনন্দিত ও রোমাঞ্চে ভরপুর।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও মাঠে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। দ্বিতীয়ার্ধে সিরাজদিখান দল আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে গেলেও লৌহজং দলের রক্ষণভাগও ছিল দৃঢ়। একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে সিরাজদিখান উপজেলার মেয়েরা দেখান অনন্য সাহস ও দক্ষতা। দলে থাকা খেলোয়াড়রা দৃঢ় মনোবলে একের পর এক সফল শট নিয়ে ৩টি গোল করেন, অপরদিকে লৌহজং দলের চার শটের মধ্যে মাত্র একটি জালে জড়াতে সক্ষম হয়। সিরাজদিখান দলের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে জয় নিশ্চিত হয় সিরাজদিখানের মেয়েদের।
খেলা শেষে মাঠজুড়ে আনন্দের উল্লাসে ভরে ওঠে পরিবেশ। খেলোয়াড়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন স্মরণীয় এই জয়। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে।
দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বয়রাগাদি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুভ কুন্ডু। তিনি বলেন, “আমাদের মেয়েরা এখন সাহসী, আত্মবিশ্বাসী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। তারা মাঠে নামলে জেতার ইচ্ছা নিয়েই খেলে। এই জয় তাদের পরিশ্রম ও ঐক্যের ফল।”
খেলা শেষে জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, সিরাজদিখান উপজেলার মেয়েরা এখন জেলার মধ্যে অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করছে। তাদের খেলায় যেমন ছিল টেকনিক্যাল দক্ষতা, তেমনি ছিল স্পোর্টসম্যানশিপ ও দলীয় সমন্বয়।
আগামী রবিবার সেমিফাইনালে সিরাজদিখান উপজেলা দল মুখোমুখি হবে টংগিবাড়ী উপজেলার। মেয়েরা ইতোমধ্যে নতুন করে অনুশীলন শুরু করেছে এবং ফাইনালে ওঠার প্রত্যয়ে একত্রে কাজ করছে।
স্থানীয়ভাবে মেয়েদের এই জয় বয়রাগাদি ইউনিয়নে সৃষ্টি করেছে নতুন উদ্দীপনা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা মেয়েদের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।
এক কথায়, সিরাজদিখান উপজেলার এই জয় শুধুমাত্র একটি খেলার জয় নয়—এটি মেয়েদের সাহস, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার এক অনুপ্রেরণাদায়ক প্রতীক হয়ে উঠেছে পুরো মুন্সীগঞ্জে।