
সিরাজদিখানে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির ৬ ইউনিয়নে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
মোঃ রুবেল বেপারী, স্টাফ রিপোর্টার:
রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস খতমে নবুওয়াত রক্ষার দাবিতে আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য “খতমে নবুওয়াত জাতীয় মহাসমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী যে প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি চলছে, তারই অংশ হিসেবে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ, সিরাজদিখান উপজেলা শাখা-এর উদ্যোগে উপজেলার রশুনিয়া, কোলা, কেয়াইন, রাজানগর, চিত্রকোট, মালখানগর ও বাসাইল ইউনিয়নে পৃথক পৃথক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল — স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরা, তৃণমূল কমিটি ও ইসলামপ্রেমী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং আসন্ন জাতীয় মহাসমাবেশে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
প্রত্যেক সভায় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের আলেম-ওলামা, হাফেজ, খতিব, মাদরাসা শিক্ষক, সমাজসেবক, তরুণ কর্মী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ, যারা খতমে নবুওয়াতের বিষয়টিকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেন।
আলোচনায় বক্তারা একবাক্যে ঘোষণা দেন —
> “যে কোনো মূল্যে নবুওয়াতের মর্যাদা ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর চূড়ান্ত নবুওয়াতের বিশ্বাসকে রক্ষা করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।”
সভাগুলোর অন্যতম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী দা: বা:। তিনি বলেন,
> “খতমে নবুওয়াত কেবল একটি ধর্মীয় ধারণা নয়, এটি ইসলাম ও মুসলমানের পরিচয়ের মূল ভিত্তি। যারা নবুওয়াতের বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করতে চায়, তারা ইসলাম বিদ্বেষী। তাই আমাদের প্রত্যেককে ঈমান রক্ষার আন্দোলনে শরিক হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
> “১৫ নভেম্বরের জাতীয় মহাসমাবেশ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি আল্লাহ ও রাসুল ﷺ-এর ভালোবাসার প্রকাশ। সেদিন ঢাকার মাঠে লাখো তৌহিদি জনতার উপস্থিতি প্রমাণ করবে, মুসলমানরা এখনো জাগ্রত আছে।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আবুল হাসান (মুন্সীগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক), মুফতি মাহবুব, মুফতি ওমর ফারুক, মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ, মাওলানা আবু ইছহাক, মাওলানা আবু ইয়সুফ, মাওলানা আব্দুল কাদির (সহ-সভাপতি, সিরাজদিখান উপজেলা শাখা) প্রমুখ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমিটির দায়িত্বশীল ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
মুফতি আবুল হাসান বলেন,
> “খতমে নবুওয়াত রক্ষার আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি গোটা উম্মাহর ঈমানি দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের সমাপ্তি মানা মানেই মুসলমান থাকা, আর এই বিশ্বাস অস্বীকার করা মানেই ইসলাম ত্যাগ করা। তাই আমরা চাই রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হোক।”
বক্তারা আরও বলেন,
> “আমাদের যুব সমাজকে খতমে নবুওয়াতের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পরিবার ও সমাজে ঈমানি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকার ময়দানে লাখো মুসল্লির উপস্থিতির মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করব, নবুওয়াতের মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশি মুসলমানরা একতাবদ্ধ।”
মুফতি শাহাদাত খান, ইসলামী ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
> “যে জাতি রাসুল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসায় এক হয়, তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নবুওয়াতের পক্ষে সোচ্চার হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
> “সিরাজদিখান ও এর ইউনিয়ন পর্যায়ে আলেম সমাজকে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে হবে। প্রতিটি মসজিদ ও মাদরাসা থেকে দাওয়াতের ধারা চালু রাখতে হবে, যেন ১৫ নভেম্বরের সমাবেশে সিরাজদিখানের নাম সবার আগে উচ্চারিত হয়।”
এ সময় বক্তারা ১৫ নভেম্বরের মহাসমাবেশে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। প্রতিটি ইউনিয়ন, মসজিদ ও মাদরাসা থেকে প্রচারণা চালিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঢাকার মাঠে উপস্থিত করার আহ্বান জানান।
রশুনিয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল কাদির। তিনি বলেন,
> “আমরা খতমে নবুওয়াতের রক্ষক। এই বিশ্বাস নিয়ে কাজ করলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন।”
চিত্রকোট ইউনিয়নের সভায় সভাপতিত্ব করেন মুফতি শাহাদাত খান। তিনি বলেন,
> “চিত্রকোট ইউনিয়নের জনগণ খতমে নবুওয়াতের প্রতি অটল। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ ১৫ নভেম্বর ঢাকার মাঠে আমাদের ইউনিয়নের উপস্থিতি হবে উদাহরণযোগ্য।”
সভায় অংশগ্রহণকারীরা কোরআন ও হাদীসের আলোকে খতমে নবুওয়াতের মৌলিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন এবং কাদিয়ানীদের ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।
পরামর্শ সভা শেষে আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা হয় —
যেন খতমে নবুওয়াতের আন্দোলনকে তিনি কবুল করেন এবং আসন্ন জাতীয় মহাসমাবেশ সফল ও ফলপ্রসূ হয়।
আলহামদুলিল্লাহ, সভাগুলোর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন —
> “খতমে নবুওয়াতের আদর্শ রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ ও পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। নবীজির ভালোবাসা আমাদের অনুপ্রেরণা, ঈমান আমাদের শক্তি।”
এই সাতটি ইউনিয়নের পরামর্শ সভা সিরাজদিখান উপজেলায় ধর্মপ্রাণ জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যেকে এখন প্রস্তুত ১৫ নভেম্বরের ঐতিহাসিক খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের মর্যাদা রক্ষায় নিজের অবস্থান ঘোষণা করতে।
📿
“আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এই প্রচেষ্টা কবুল করেন, আমাদের ঈমান দৃঢ় করেন এবং খতমে নবুওয়াতের পতাকা চিরউচ্চ রাখেন।” — এই দোয়ায় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।