
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে চলতি বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সহিংসতার জেরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ছাত্রজনতা। এদিন দুপুর অনুমান ২টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামস্থ মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মহসিন রেজার বাড়িঘর ভাঙচুর করে তারা। এসময় তার রাজনৈতিক সহকর্মী জৈনসার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাসুদ জমাদারের সন্ধান চায় হামলাকারীরা। মহসিন রেজা তার রাজনৈতিক সহকর্মী মোঃ মাসুদ জমাদারের সন্ধান না দেওয়ায় তার ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়। এতে মহসিন রেজার মাথায় গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকাল অনুমান সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা বাজারস্থ মোঃ মাসুদ জমাদারের দোকানে ঢুকে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তার কোমরে, পায়ে, বুকে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম হয়। এসময় মোঃ মাসুদ জমাদারের দোকান ঘর ভাংচুর চালিয়ে দোকানে থাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুস্কৃতিকারীরা। হামলা কারীদের সিংহভাগ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। এছাড়া একইদিন দুপুর বিকাল ৪টা ও সাড়ে সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় ও রাজানগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মহসিন রেজার পরিবার। হামলার শিকার মহসিন রেজার ছোট ভাই আল আমিন বলেন, “তারা আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর চালিয়েছে। আমার ভাইয়ের কাছে জৈনসারের মাসুদ জমাদারের কোথায় আছে জানতে চায় হামলাকারীরা। আমার ভাই তাদেরকে মাসুদ জমাদার কোথায় আছে বলেনি বলে তারা আমার বড় ভাই মহসিনকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা থানায় গিয়েছিলাম অভিযোগ করতে, কিন্তু থানায় পুলিশ না থাকায় সেনাবাহীনির কাছে মৌখিক অভিযোগ করে এসেছি।