1. admin@muktokagoj.com : admin :
  2. korbandhaka@gmail.com : korban : korban
  3. roeblbapare@gmail.com : Robel Bapare : Robel Bapare
  4. sarwarhshovon@gmail.com : Shovon Sarwar : Shovon Sarwar
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নড়াইলে সুপারি গাছ লাগানো নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা সিরাজদিখানে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা বাসাইলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারের পাশে সাবেক চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ইসলামপুর কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আব্দুর রশীদের গোল্ডেন A+, ১৫০০ নম্বরে পেয়েছেন ১৩৩৯ সিরাজদিখানে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৪.২৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ জন নড়াইলে ইজিবাইক চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪টি ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল উদ্ধার সিরাজদিখানে শিশু তায়েবা ও বাবা গোলাপ হত্যাকাণ্ড: শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ নড়াগাতি থানা পুলিশের অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মোল্লাকান্দিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার সিরাজদিখানে পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৮ ইছাপুরা ও পশ্চিম শিয়ালদীর দুই যুবক গ্রেপ্তার, ২০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার সিরাজদিখানে ১৪ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

মক্তব শিক্ষা: ইসলামী সমাজ গঠনের মূলভিত্তি

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২৬ বার পঠিত

মক্তব শিক্ষা: ইসলামী সমাজ গঠনের মূলভিত্তি

মো: রুবেল বেপারী, সাংবাদিক, কবি ও লেখক।

কুরআন-হাদীসের আলোকে বিশ্লেষণ

শিক্ষা মানবজীবনের আলো। এই আলোর প্রথম কণা শিশুর জীবনে ছড়িয়ে দেয় যে প্রতিষ্ঠানটি, সেটি হলো মক্তব। মক্তব মানে এমন এক স্থান যেখানে মুসলিম শিশুরা ছোটবেলা থেকেই কুরআন তেলাওয়াত, নামাজ, দোয়া, ইসলামী আদব ও নৈতিক শিক্ষা অর্জন করে। এক অর্থে, আমাদের পড়াশোনার প্রথম ধাপ শুরু হয় মক্তব থেকেই।
বাংলার গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক স্থানে সকালে আজান ও শিশুর কণ্ঠে “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি ভেসে আসে — যা আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ঈমানের প্রতীক।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আধুনিক সময়ের ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তির মোহ, এবং শিক্ষার পশ্চিমা ধারা মুসলিম সমাজের এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। করোনার পর অনেক মসজিদে মক্তব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এই মক্তব শিক্ষা বন্ধ হওয়া মানে সমাজের ঈমানী ভিত্তি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

মক্তবের শিক্ষা – ইসলামী শিক্ষার প্রথম ধাপ

মক্তব ইসলামী শিক্ষার মূলভিত্তি। এখানে শিশু কায়দা-বাগদাদি, আমপারা, নামাজের নিয়ম, দোয়া, হাদীস, ইসলামী আদব, এবং সামাজিক আচরণ শিখে। নবী করিম ﷺ বলেছেন—

> “তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।”
(সহিহ বুখারী, হাদীস: ৫০২৭)

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়— কুরআন শিক্ষা শুধু ফরজ নয়, বরং এটি সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কুরআন শেখানো মানে তাদের ঈমানের ভিত্তি দৃঢ় করা।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—

“পড়ো, তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা আল-আলাক: ১)

 

এই আয়াতই প্রমাণ করে— ইসলামের প্রথম আদেশই ছিল ‘শিক্ষা’। আর সেই শিক্ষার সূচনা ideally মক্তব থেকেই হওয়া উচিত।

মক্তব থেকে শুরু হয় নৈতিক ও ঈমানী জীবন

একটি শিশু যদি মক্তবে ২-৩ বছর পড়ে, তাহলে সে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক মৌলিক বিষয় জেনে যায়—

নামাজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত

ওজু ও পবিত্রতার নিয়ম

ছোট ছোট দোয়া ও আমল

ইসলামি সালাম, আচরণ ও শিষ্টাচার

জানাজা, রোজা, জাকাত ইত্যাদির মৌলিক ধারণা

এগুলো না থাকলে মানুষ বড় হয়ে শিক্ষিত হলেও ‘আলেম’ নয়, বরং জ্ঞানে অন্ধ’ থেকে যায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“যে ব্যক্তি তার সন্তানকে ভালো আচরণ শেখায়, সে তাকে সাদকা দেওয়ার চেয়েও উত্তম কাজ করে।”
(তিরমিজি, হাদীস: ১৯৫২)

অতএব, মক্তব শুধু ধর্ম শেখার জায়গা নয়, এটি চরিত্র গঠনের পাঠশালা।

মক্তব শিক্ষার অবক্ষয় ও বর্তমান বাস্তবতা

২০২০ সালের আগে পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ গ্রামে সকালবেলা শিশুরা মক্তবে যেত। কিন্তু করোনার সময় থেকে এই ধারাটি অনেক জায়গায় ভেঙে যায়।
বর্তমানে দেখা যায়—

শিশুরা সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল দেখে,

অনেক মসজিদে আর মক্তব চালু নেই,

অভিভাবকরা একে অপ্রয়োজনীয় ভাবছেন।

ফলাফল কী?
একটি প্রজন্ম নামাজ পড়তে জানে না,
আরবি হরফ চিনে না,
দোয়া জানে না,
এমনকি ইসলামি আদবও ভুলে যাচ্ছে।

এটি শুধু ধর্মীয় সংকট নয়, জাতীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়ও বটে।

 

ইসলামে শিশু শিক্ষার গুরুত্ব

নবী করিম ﷺ শিশু শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। হাদীসে এসেছে—

> “শিশুদের সম্মান করো এবং তাদেরকে ভালোভাবে শিক্ষা দাও।”
(সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩৬৭১)

অর্থাৎ শিশুদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাদেরকে ইসলামী শিক্ষা দেওয়া উভয়ই ইসলামী দায়িত্ব।
আল্লাহ বলেন—

> “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে সেই আগুন থেকে বাঁচাও, যার জ্বালানি মানুষ ও পাথর।”
(সূরা তাহরিম: ৬)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আলী (রাঃ) বলেন—

“তোমার সন্তানকে শিক্ষা দাও, আদব শেখাও এবং ইসলামী আচরণে অভ্যস্ত করো।”

অতএব, পরিবার যদি সন্তানের জন্য মক্তব শিক্ষা নিশ্চিত না করে, তবে তা একপ্রকার অবহেলা এবং আখিরাতে জবাবদিহির কারণ হতে পারে।

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী পাঠ অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন

বর্তমান স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে শিশুদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় পাঠ ক্রমশ কমে আসছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে উপরে গিয়ে অনেক শিশু ইসলামী বিষয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতিতে ইসলামী শিক্ষা ‘আবশ্যিক’ করা দরকার।
নামাজ, রোজা, দোয়া, পবিত্রতা, নৈতিকতা— এসব বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ্যসূচিতে রাখতে হবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“প্রত্যেক তোমরা রাখাল, এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের জন্য জবাবদিহি করবে।”
(সহিহ বুখারী ও মুসলিম)

অর্থাৎ রাষ্ট্র, সমাজ ও অভিভাবক সবাই দায়িত্ববান যেন শিশুদের ইসলামী জ্ঞান থেকে বঞ্চিত না করা হয়।

মক্তব শিক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে সমাজে কী প্রভাব পড়ে

যদি মক্তব শিক্ষা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে সমাজে দেখা দেবে—

1. নামাজের প্রতি অবহেলা

2. ইসলামী আদব-আখলাকের অভাব

3. হারাম-হালাল সম্পর্কে অজ্ঞতা

4. পিতা-মাতার প্রতি অবাধ্যতা

5. সামাজিক অপরাধ ও নৈতিক পতন

এই অবস্থা আজ অনেকটা দৃশ্যমান। রাসূল ﷺ বলেছেন— “যখন তোমরা দেখবে মানুষ জ্ঞান অর্জন বন্ধ করেছে, তখন আল্লাহ তাদের উপর শাস্তি পাঠাবেন।”

(বায়হাকী, শু‘আবুল ঈমান)

 

অতএব, মক্তব বন্ধ থাকা মানে জ্ঞানের উৎস বন্ধ থাকা, আর জ্ঞানহীন সমাজ ধ্বংসের পথে।

মক্তব শিক্ষার সংস্কার ও পুনর্জাগরণ

মক্তবকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে—

শিশুর বয়স ও মান অনুযায়ী পাঠক্রম নির্ধারণ

অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ

মসজিদ ও সমাজের অর্থনৈতিক সহায়তা

অভিভাবকদের অংশগ্রহণ

নামাজ, দোয়া, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমমূলক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— “যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথে অন্যকে আহ্বান করে, সে ততটাই সওয়াব পাবে, যতটা সে আমল করে।”

(সহিহ মুসলিম, হাদীস: ২৬৭৪)

অতএব, মক্তব শিক্ষা পুনরুজ্জীবিত করা মানে সমাজে সওয়াবের বীজ বপন করা।

মক্তব পড়া শিশুর ভবিষ্যৎ প্রভাব

একজন শিশু যদি মক্তবে কুরআন শেখে, তাহলে সে—

জীবনে আল্লাহভীরু হয়,

পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়,

সমাজে ভালো কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

এমন প্রজন্মই পারে সমাজে শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“যে ব্যক্তি সৎ কাজ করে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই করে।”
(সূরা ফুসসিলাত: ৪৬)

মক্তব হলো ইসলামী সমাজের প্রাণ। এখান থেকেই শিশুরা শিখে আল্লাহভীতি, নৈতিকতা, এবং মানবতা।
মক্তব শিক্ষা বন্ধ হওয়া মানে এক প্রজন্মের ঈমান ধ্বংস করা। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র— সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব, তার সন্তান যেন মক্তবে বা সমমানের ইসলামী শিক্ষার আওতায় আসে।

শেষে আল্লাহর দরবারে দোয়া—

“হে আল্লাহ! আমাদের সন্তানদের কুরআনের আলোয় আলোকিত করো, তাদেরকে নেক আমলের পথে চালাও, এবং আমাদের সমাজে মক্তব শিক্ষার নবজাগরণ ঘটাও।”
আমিন।

মোঃ রুবেল বেপারী

সাংবাদিক,  লেখক

সিরাজদিখান,  মুন্সীগঞ্জ।

ই মেইল robelbapare@gmail.com

 

Facebook Comments Box

আজকের দিন-তারিখ

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
  © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ মুক্ত কাগজ
Theme Customized By Shakil IT Park