1. admin@muktokagoj.com : admin :
  2. korbandhaka@gmail.com : korban : korban
  3. roeblbapare@gmail.com : Robel Bapare : Robel Bapare
  4. sarwarhshovon@gmail.com : Shovon Sarwar : Shovon Sarwar
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নড়াইলে সুপারি গাছ লাগানো নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা সিরাজদিখানে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা বাসাইলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারের পাশে সাবেক চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ইসলামপুর কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আব্দুর রশীদের গোল্ডেন A+, ১৫০০ নম্বরে পেয়েছেন ১৩৩৯ সিরাজদিখানে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৪.২৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ জন নড়াইলে ইজিবাইক চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪টি ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল উদ্ধার সিরাজদিখানে শিশু তায়েবা ও বাবা গোলাপ হত্যাকাণ্ড: শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ নড়াগাতি থানা পুলিশের অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মোল্লাকান্দিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার সিরাজদিখানে পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৮ ইছাপুরা ও পশ্চিম শিয়ালদীর দুই যুবক গ্রেপ্তার, ২০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার সিরাজদিখানে ১৪ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

সিরাজদিখানের শাহ জালাল: সমাজসেবায় অনুকরণীয় এক মানুষ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৩ বার পঠিত

সিরাজদিখানের শাহ জালাল: সমাজসেবায় অনুকরণীয় এক মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক │ সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)

মানুষের জীবন সীমাবদ্ধতার গণ্ডিতে আবদ্ধ হলেও, সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কেউ কেউ অসীম মানবতার আলো ছড়িয়ে যান সমাজে। এমন মানুষরা অর্থ-সম্পদে ধনী নন, কিন্তু হৃদয়ে ধারণ করেন অশেষ মমতা, সহমর্মিতা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। ঠিক এমনই একজন নীরব সমাজকর্মী ও মানবসেবক হলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া গ্রামের শাহ জালাল ওরফে পান কবিরাজ।

চল্লিশের কোঠায় বয়স হলেও, তার কর্মযজ্ঞ ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগে তিনি আজ সিরাজদিখানবাসীর হৃদয়ে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছেন। গত এক যুগ ধরে তিনি নীরবে, নিরলসভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কারও মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই যেন তার জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান এই মানুষটি।

শুরুটা ছোট থেকে, এখন সমাজে দৃষ্টান্ত

শাহ জালালের মানবসেবার যাত্রা শুরু হয় প্রায় ১২ বছর আগে। সীমিত আয়ের মানুষ হয়েও তিনি অনুভব করতেন সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা। আশপাশের মানুষ যখন কোনো বিপদে পড়তেন, তিনি সর্বপ্রথম ছুটে যেতেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। ধীরে ধীরে তার এই মানবিক উদ্যোগ অনেকের মন জয় করে নেয়।

এই মানবসেবার ধারাবাহিকতাতেই ৭-৮ বছর আগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন একটি সামাজিক সংগঠন— “মা-বাবা ফাউন্ডেশন”। নামেই বোঝা যায়, এই সংগঠনের মূল অনুপ্রেরণা ছিল পিতা-মাতার দোয়া ও তাদের আদর্শ। শাহ জালাল বিশ্বাস করেন— বাবা-মায়ের সেবা, মানুষের সেবা, আর সমাজের কল্যাণ একসূত্রে গাঁথা। তাই তিনি সংগঠনের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তুলে ধরেন মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত।

২৬০টি টিউবওয়েল স্থাপন— বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা

গ্রামীণ জীবনে বিশুদ্ধ পানির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু অনেক জায়গায় এখনো মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে নানা রোগে ভোগে। শাহ জালাল বিষয়টি উপলব্ধি করে নিজ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ২৬০টি টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন বিভিন্ন গ্রামে। তার এই উদ্যোগে শত শত পরিবার আজ পাচ্ছে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা।

রশুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমাংশে এক বৃদ্ধা জান্নাতন বিবি জানান,

> “আমাদের এলাকায় আগে বিশুদ্ধ পানির বড় কষ্ট ছিল। শাহ জালাল ভাই নিজের টাকায় টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়েছেন। এখন আর পানি আনতে দূরে যেতে হয় না।”

 

এমন অসংখ্য পরিবার আজ তার মানবিক উদ্যোগের সুফল ভোগ করছে।

ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবদান

শুধু পানি সরবরাহ নয়, শাহ জালাল সমাজের ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও সমানভাবে মনোযোগী। তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ৬টি মসজিদে অনুদান দিয়েছেন এবং ৪টি মাদরাসায় নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও রশুনিয়া গোরস্থানের চারপাশে বাউন্ডারি নির্মাণে তিনি ইট সরবরাহ করে সহায়তা দিয়েছেন, যাতে কবরস্থানটি সুরক্ষিত থাকে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকে।

খেলাধুলা ও তরুণদের উন্নয়নে উদ্যোগ

একজন সমাজসেবকের চোখে যেমন দরিদ্র মানুষের কষ্ট ধরা পড়ে, তেমনি তিনি বোঝেন তরুণ প্রজন্মের বিকাশের গুরুত্বও। তাই শাহ জালাল স্থানীয় যুবকদের উৎসাহিত করতে নিজ অর্থায়নে ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।

প্রতিবছর তিনি নিজ উদ্যোগে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন, যেখানে এলাকার তরুণরা অংশ নেয় প্রাণবন্ত উদ্দীপনায়। খেলাধুলার মাধ্যমে তারা যেমন সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকছে।

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান বলেন,

> “শাহ জালাল ভাই না থাকলে হয়তো আমাদের ফুটবল দলটা গঠনই হতো না। উনি নিজের টাকায় জার্সি থেকে শুরু করে বল পর্যন্ত দেন।”

 

মাদরাসায় নিয়মিত খাদ্য সহায়তা

ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল শাহ জালাল প্রতি মাসে একটি স্থানীয় মাদরাসায় ৫০ কেজি চাল দান করেন। এতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের খাবারের নিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাদরাসার মুহতামিম জানান,

> “প্রতি মাসেই জালাল ভাই চাল পাঠান। কোনোদিন দেরি হয় না। এতে আমাদের ছাত্ররা নিয়মিত আহার পায়— এটা বড় কল্যাণের কাজ।”

 

৩৪টি বিয়ের আয়োজন— বাকপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

মানবসেবার সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হলো শাহ জালালের বিবাহ আয়োজন কর্মসূচি। তিনি এখন পর্যন্ত ৩৪টি বিয়ের আয়োজন করেছেন নিজের খরচে। এর মধ্যে সবচেয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত— ২২ জন বোবা ও বাকপ্রতিবন্ধী নারী-পুরুষের বিবাহ সম্পন্ন করানো।

তিনি শুধু বিয়ের আয়োজনেই থেমে যাননি, বরং এসব দম্পতির সংসার টিকিয়ে রাখতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন।

বিবাহিত এক প্রতিবন্ধী দম্পতি বলেন,

> “আমরা কেউ কাজ করতে পারি না। শাহ জালাল ভাই না থাকলে সংসার চলত না। উনি শুধু বিয়েই দেননি, আমাদের জীবনটাকেই দিয়েছেন।”

 

এমন মহতী কাজের কথা এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, আর তার এই উদাহরণ অনেক তরুণকে উদ্বুদ্ধ করছে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় উপস্থিতি

শাহ জালাল সবসময় সমাজের প্রতিটি ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত থাকতে ভালোবাসেন। ওয়াজ মাহফিল, ইসলামি সভা, খেলাধুলা কিংবা গ্রামীণ উন্নয়ন— সব জায়গায় তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মানুষের দুঃখে তিনি যেমন পাশে থাকেন, তেমনি আনন্দেও অংশ নেন সবাইকে একত্রিত করে। এতে সমাজে তৈরি হয়েছে একধরনের ঐক্যের পরিবেশ।

স্থানীয়দের চোখে শাহ জালাল

রশুনিয়া গ্রামের প্রবীণ সমাজসেবক হযরত আলী বলেন,

> “শাহ জালাল ভাই আমাদের গ্রামের গর্ব। নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবেন না, শুধু মানুষের কল্যাণ চিন্তা করেন।”

 

একজন স্কুলশিক্ষক বলেন,

> “তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি নিজে আলো না হয়ে অন্যদের আলোকিত করেন। আজকের সমাজে এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল।”

 

মানবিকতায় অনুপ্রেরণার প্রতীক

বর্তমান সমাজে যেখানে আত্মকেন্দ্রিকতা আর ভোগবাদ মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তার করছে, সেখানে শাহ জালালের মতো মানুষই মানবতার আলো জ্বালিয়ে রাখছেন। তার এই কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে— সমাজ পরিবর্তনের জন্য বড় পদ বা বিপুল সম্পদ নয়, প্রয়োজন কেবল ইচ্ছাশক্তি আর মানবতার দায়বোধ।

তিনি বিশ্বাস করেন,

> “মানুষের সেবাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা কাউকে শুধু নিজের জন্য সৃষ্টি করেননি, বরং অন্যের উপকারের জন্য করেছেন।”

 

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সমাজসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে নিবেদন করেছেন।

শেষ কথা

আজ রশুনিয়া গ্রামের এই শাহ জালাল ওরফে পান কবিরাজ শুধু একজন সমাজসেবক নন, তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। তার কার্যক্রম থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে সবার— কিভাবে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বড় কাজ করা যায়, কিভাবে একজন মানুষ নীরবে সমাজকে বদলে দিতে পারে।

তার মানবিক কাজ আজ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে সিরাজদিখানের মানুষের কাছে।
ভবিষ্যতে তার মতো আরও মানুষ এগিয়ে এলে, সমাজে দারিদ্র্য-অসহায়ত্ব কমবে, বাড়বে ভালোবাসা, সহযোগিতা ও ঐক্য— যা একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।

Facebook Comments Box

আজকের দিন-তারিখ

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ
  © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ মুক্ত কাগজ
Theme Customized By Shakil IT Park